Monday , December 5 2022
সর্বশেষ সংবাদ:
প্রচ্ছদ / জাতীয় / সিরিজ বোমা হামলার ১৫ বছর

সিরিজ বোমা হামলার ১৫ বছর

সময়কন্ঠ ডেস্ক: দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৫ বছরপূর্তি আজ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

দেশের ৫০০ স্পটে এই সিরিজ বোমা হামলায় দু’জন নিহত এবং অন্তত ১০৪ জন আহত হন।
সিরিজ বোমা হামলার ওই ঘটনার পর সারাদেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। তবে এই ঘটনার ১৫ বছরে ৯৬টি মামলার নিষ্পত্তি হলেও এখনও বিচারাধীন রয়েছে ৪৭টি মামলা।

পুলিশ সদর দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে ১৫৯টি মামলার মধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

২০০৫ সাল থেকে চলতি বছরের (২০২০) ১৬ আগস্ট পর্যন্ত- এসব মামলার মধ্যে ১৪৩টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়া হয়। বাকি ১৬টি মামলায় ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেয়া হয়। মামলাগুলোতে ১৩০ জন এজাহারনামীয় আসামী ছিল। বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে মোট ৯৬১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে। আসামীদের মধ্যে ৩২২ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছে ৩৫৮ জন এবং জামিনে রয়েছে ১৩৩ জন আসামি।

পুলিশ সদর দফতর থেকে আরও জানানো হয়, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ডিএমপিতে ১৮টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে ৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৬টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়া হয়েছে। ৭টি মামলা এখনও ঢাকা জুডিশিয়াল কোর্টে চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা বলেন, পুলিশে পক্ষ থেকে এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এসব মামলা আদালতে এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

সাংগঠনিক ক্যাপাসিটি বা সক্ষমতা নেই জেএমবি’র:
সিরিজ বোমা হামলার পর প্রকাশ্যে নিজেদের প্রচারণা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ১৯৮৮ সালে শায়খ আবদুর রহমান জেএমবি প্রতিষ্ঠা করলেও প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পর ১৯৯৮ সালে জেএমবি দেশব্যাপী তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তবে দলটির প্রকাশ্য তৎপরতা শুরু হয় ২০০৩ সালের প্রথমদিকে। পরে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা ও ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারককে হত্যার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে এই জঙ্গি সংগঠনটি।

এরপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের পর জেএমবির শুরা কমিটির প্রধান সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আধ্যাত্মিক নেতা শায়খ আবদুর রহমান, অপারেশন কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহসহ শীর্ষ ৬ জনের ফাঁসি ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ কার্যকর হওয়ার পর আত্মগোপনে যায় সংগঠনের অন্য নেতা-কর্মীরা।

পরে সংগঠনে নেতৃত্বের সংকট থাকায় জেএমবি সংগঠনটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পুরাতন জেএমবি ও নব্য জেএমবি। পুরাতন জেএমবি ছোটখাট নাশকতা করে সংগঠনটি সচল রাখতে চাইলেও নব্য জেএমবি চুপচাপ তাদের সাংগঠনিক ও আর্থিক শক্তি বাড়ানোর কাজ করতে থাকে। যার প্রতিফলন ঘটে ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান রেস্তোরায় জঙ্গি হামলার মধ্য দিয়ে।

এর ঠিক সপ্তাহখানেক পর ৭ জুলাই শোলাকিয়ার ঈদগাহে আরও একটি হামলা চালায় নব্য জেএমবি। এই দুটি জঙ্গি হামলার পর অনেকটা গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা জঙ্গি আস্তানার সন্ধান করতে থাকে এবং নব্য জেএমবি’র শীর্ষ নেতাদের খোঁজে অভিযান পরিচালনা করতে থাকে পুলিশের কাউন্টার টোরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।

এরপর রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন জঙ্গি আস্তায় অভিযান চালিয়ে জেএমবি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মুখে নব্য জেএমবি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। শীর্ষ জঙ্গিদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে। অনেকে আবার ধরা পড়েছে।

পুলিশের কাউন্টার টোরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সংগঠিত বড় কোনো হামলা করার মতো সাংগঠনিক শক্তি বা ক্যাপাসিটি আপাতত জেএমবি বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠনের নেই। ২০০৫ সালের দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২০১৬ জেএমবির যে সক্ষমতা ছিল, বর্তমানে দেশে সংগঠিত কোনো হামলা করার সাংগঠনিক সক্ষমতা কোনো সংগঠনেরই নেই। ’

Leave a Reply

Your email address will not be published.