সকল মেনু

স্বাগত ২০২২: নতুন আশার আলো

অনলাইন ডেস্ক || সময়কন্ঠ.কম

মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল আরও একটি বছর। বর্ষ পরিক্রমায় যুক্ত হলো আরেকটি পালক। বিদায়ী বছরের ব্যর্থতাকে সরিয়ে রেখে নতুন বছরে নতুনভাবে শুরু হলো পথচলা। পুরনো বছরের সংশয়, সঙ্কট, উদ্বেগ কাটিয়ে উঠে নতুন ভাবনা নতুন আশায় নতুন করে দিনযাপনের শুরু আজ থেকে। স্বাগত খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০২২।

পুরনো বছর পেছনে ফেলে সম্মুখ পানে এগিয়ে যাওয়ার দুরন্ত আহ্বানে মানুষ স্বাগত জানায় আগত ভবিষ্যতকে। শুক্রবারের (৩১ ডিসেম্বর) সূর্যাস্ত আরেকটি খ্রিস্টীয় বছরের সমাপ্তির ডাক দেয়। আর ভোরের সূর্য পৃথিবীর বুকে নিয়ে আসছে নতুন বছরের প্রথম সকাল। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশ পা ফেলল ৫১ বর্ষে।

বছরের শেষ দিনটিতে এসে ভালো-মন্দ আর আনন্দ-বেদনার স্মৃতিগুলো আরও একবার রোমন্থন করবেন অনেকেই। একইভাবে জীবনের সব ধরনের নেতিবাচক বিষয়গুলোকে দূরে ঠেলে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় নতুন করে পথচলার প্রত্যয় ব্যক্ত করবেন প্রায় সকলে। এছাড়া দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডগুলো মূলত ইংরেজি সালের গণনায় হওয়ায় খ্রিস্টীয় বছর বেশ গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জীবনে। সেদিক বিবেচনায় বিদায়ী বছরটা কেমন গেলো তার হিসাবও কষবেন কেউ কেউ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর ভাবনায় নানাভাবে মূল্যায়িত হবে বিদায়ী এই বছরটি।

২০২০ সালের মতো সদ্য বিদায়ী বছরটিতেও ছিল করোনার প্রভাব। তবে করোনার ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে দেশের অধিকাংশ মানুষ টিকার আওতায় এসেছে। বছরের শেষ মাসে শুরু হয়েছে বুস্টার ডোজ কার্যক্রমও। দেড় বছর পর বিদায়ী বছরে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীরা আবারো ক্লাসে ফিরতে পেরেছে।

গত বছরও বিভিন্ন খাতে ছিল করোনার প্রভাব। করোনার ফলে অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়েছে। মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কাজের সুযোগ ও পরিধি সংকুচিত হয়েছে। অনেক মানুষকে বেকারত্বের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। বছরের অর্ধেক সময় শিক্ষার্থীরা ছিল গত বছরের মতো ক্লাসের বাইরে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনেকেই ঝরে পড়েছেন। তবে এই বছরেই শিক্ষার্থীরা আবারো শারীরিকভাবে ক্লাসে ফিরতে পেরেছেন।

এর বাইরে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০২১ ছিল বেশ ঘটনাবহুল একটি বছর। নানা ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ এসেছে, ঘটেছে উত্থান-পতনের ঘটনা। রাজনীতিও অনেকটাই করোনা কবলিত ছিল গেল বছরে। রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতাও ছিল সীমিত।

এদিকে ২০২০ সালে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মুজিববর্ষ পালন করার পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি করোনার কারণে। কিন্তু সদ্য বিদায়ী ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে ঝাঁক ঝমকের সাথে। উদযাপন করা হয়েছে মুজিববর্ষও।

নতুন বছরে, নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে বাংলাদেশ। নতুন স্বপ্ন দেখে শান্তি, স্বস্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির। বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে, জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক সর্বোপরি ভয়াবহ হন্তারক ব্যাধি করোনা মুক্ত হবে সমাজ। বিনাশ হবে অগণতান্ত্রিক অপশক্তি, জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও অপরাজনীতি।

দেশবাসী প্রত্যাশা করে, সম্প্রীতি ও সমঝোতার সংস্কৃতি রচনায় রাজনৈতিক দলগুলো অগ্রসর হবে। এরই মধ্যে নতুন ইসি গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শুরু হয়েছে। নতুন বছরেও এই সংলাপ চলবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top