Wednesday , August 10 2022
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু: প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে সংসদে প্রস্তাব

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু: প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে সংসদে প্রস্তাব

ডেস্ক : স্বপ্নের পদ্মা সেতু সস্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণের এই অর্জন ও কৃতিত্বের ‘একমাত্র দাবীদার’ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে একটি সাধারণ প্রস্তাব সংসদে তোলা হচ্ছে। বুধবার উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি দিনের কার্যসূচি থেকে জানা গেছে।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী ১৪৭ বিধিতে এ সাধারণ প্রস্তাব সংসদে তুলবেন। ওই প্রস্তাবের উপর সংসদ সদস্যদের আলোচনা শেষে তা সংসদ গ্রহণ করবে।

নূর-ই-আলম চৌধুরীর প্রস্তাবটি হলে, সংসদের অভিমত এই যে, আগামী ২৫ জুন, ২০২২ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু কাঙ্ক্ষিত সর্ববৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প ‘পদ্মা সেতু’উদ্বোধন করবেন। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার তিন কোটির অধিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। চার লেইনের হাইওয়ে এবং এক লেইনের রেললাইন সম্বলিত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু আজ পরম বাস্তবতা।

প্রস্তাবে বলা হয়, এই অর্জন ও কৃতিত্বের দাবীদার একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শত প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি, বিশ্ব ব্যাংকের ভিত্তিহীন অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে পদ্মা সেতু নির্মাণে শেখ হাসিনা ছিলেন তার পিতার মত আপসহীন, অটল ও অবিচল। কোনো চাপের কাছে শেখ হাসিনা সেদিন মাথা নত করেননি।

২০১২ সালের ৮ জুলাই এই মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নেই হবে। বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। সে সময়ে কিছু অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞগণ বাংলাদেশের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

নূর-ই-আলম চৌধুরীর প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, পদ্মা সেতুর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। পদ্মা সেতুর সড়ক ও রেল সংযোগের কারণে প্রথমবারের মত সমগ্র দেশ একটি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর আওতায় চলে আসবে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় সামগ্রিকভাবে দেশের জিডিপি বাড়বে প্রতি বছর অন্তত ১.২৩ শতাংশ।

বিগত এক দশকে বাংলাদেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চালিত হবে এবং এর ফলে দক্ষিণাঞ্চল আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি। সকল প্রকার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের অতুলনীয় নিদর্শন।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু নির্মাণ বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে এবং স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় এক সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করেছে। জাতির পিতা শেখ মুজিব বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য অর্জনে সংগ্রাম করেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু নির্মাণ সেই অর্থনৈতিক মুক্তির এক অনন্য সোপান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার সাহসী ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব, মানুষের প্রতি অপার ভালোবাসা এবং জাতিকে পদ্মা সেতু উপহার দেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞচিত্তে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হোক।

পদ্মা নদীর বুকে নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করেছিলেন শেখ হাসিনা।

করোনাভাইরাস মহামারি আর বন্যার মধ্যেও কাজের গতি কমে যায়। সব বাধা পেরিয়ে অক্টোবরে বসানো হয় ৩২তম স্প্যান। এরপর বাকি স্প্যানগুলো বসানো হয়ে যায় অল্প সময়ের মধ্যেই। ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় পূর্ণ আকৃতি পায় স্বপ্নের সেতু, যুক্ত হয় পদ্মার দুই পাড়।

আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতু উদ্বোধন করবেন। জমকালো উদ্বোধনের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে চলছে বিপুল তোড়জোড়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মত পুরো দেশের মানুষই এখন এই সেতু খোলার অপেক্ষায়।