সকল মেনু

ভৈরবে এক দিনে দুই আত্মহত্যা

সোহেলুর রহমান, ভৈরব( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

ভৈরবে পৃথক দুটি ঘটনায় প্রবাসী প্রেমিকের সাথে অভিমানে প্রেমিকা ও মায়ের সাথে অভিমানে কিশোরীর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা খবর পাওয়া গেছে। ১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বেলা ১২টায় খবর পেয়ে শহরের কমলপুর পঞ্চবটি ও অপরটি লক্ষ্মীপুর তাঁতারকান্দি এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

জানা যায়, প্রবাসী প্রেমিকের সাথে অভিমান করে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করা প্রেমিকা পৌর শহরের কমলপুর পঞ্চবটি এলাকার আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার মেয়ে জান্নাতুল বেগম (২০) ও মায়ের সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করা কিশোরী শহরের লক্ষ্মীপুর তাঁতারকান্দি এলাকার মিঠু মিয়ার মেয়ে জিমহা বেগম (১৪)।

থানা পুলিশ ও নিহত জান্নাতুল বেগমের পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইতালী প্রবাসী উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর রেলগেইট এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে রিফাত মিয়ার সঙ্গে বছর খানেক সময় ধরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে জান্নাতুল বেগমের। আজ মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে রিফাত ও জান্নাতুল এর মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটি হয়। কথার এক ফাঁকে প্রেমিককে বলেই জান্নাতুল বেগম জানালার গ্রিলে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। প্রতিবেশী চাচাতো বোন তুলনা বেগম এর কাছে খবর পেয়ে বড় ভাই আরাফাত দরজা ভেঙ্গে দেখতে পায় জান্নাতুল বেগম ফাঁসিতে ঝুলে আছে। সকালে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী।

এ বিষয়ে নিহতের পিতা আব্দুর রাজ্জাক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে সরকারি জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজে অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য ফিনল্যান্ড পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমার মেয়ের আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন ছিল। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। শম্ভুপুর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে রিফাত বিভিন্ন কৌশলে আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। আমরা বিষয়টি বুঝতে পারলেও কোনো প্রমাণাদি ছিল না। তাদের ফোনে যোগাযোগ ছিল বেশি। তবে যতটুকু জেনেছি ছেলের মা ও বাবা ছেলেকে আমার মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখতে নিষেধ করেছে। রাতে মেয়ের সাথে ছেলের কথাকাটাকাটি হলে আমার মেয়ে তার প্রেমিককে জানিয়েই আত্মহত্যা করে। প্রেমিক টি জানতো আমার মেয়ে ফাঁসিতে ঝুলেছে। তার মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমার মেয়ের আত্মহত্যার জন্য ছেলে রিফাত ও তার পরিবার দায়ী।

এ বিষয়ে প্রবাসী রিফাতের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে কিশোরী আত্মহত্যা ঘটনায় পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠে কাজের জন্য মেয়েকে বকাবকি করেন মা মুক্তা বেগম। কিশোরী জিমহা সবজি ধুয়ে আনার পর ভালো করে ধুয়া হয়নি বলে বকাবকি করে মা। নিহত কিশোরীর মা মুক্তা বেগম স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। তার বাবা ঢাকায় একটি ওয়ার্কসপে কর্মরত। মা মেয়ের তর্কাতর্কি শেষে মা তার কর্মস্থলে যায়। কিছু সময় যেতে না যেতেই খবর পায় মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নিহতের মামা শরীফ মিয়া বলেন, আমার ভাগ্নি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারে তারা ২ ভাই ২ বোন। বোনদের মাঝে সে বড়। মা তো শাসন করবেই, তাই বলে সে অভিমান করে আত্মহত্যা করবে। আমরা পরিবারের কেউ বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না।

ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বলেন, পরিবারের অভিযোগ প্রেমিকের সাথে অভিমানে জান্নাতুল বেগম আত্মহত্যা করেছে। অপর দিকে মায়ের সাথে অভিমান করে কিশোরী জিমহা আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি শুনেছি। খবর পেয়ে মরদেহ দুটি থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top