সকল মেনু

‘সীমানা পেরিয়ে’ চলে গেলেন জয়শ্রী কবির

ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। নিচ্ছিলেন চিকিৎসা। অবশেষে গত ১২ জানুয়ারি লন্ডনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘সীমানা পেরিয়ে’খ্যাত অভিনেত্রী।

তার প্রাক্তন স্বামী প্রয়াত চিত্রপরিচালক আলমগীর কবিরের ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

জয়শ্রী মূলত ভারতের কলকাতার অভিনেত্রী ছিলেন। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জয়ের মাধ্যমে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক। ১৯৭১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ সিনেমায় অভিনয় করেন। উত্তমকুমারের সাথে তার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘অসাধারণ’ ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায়।

কলকাতায় জন্ম হলেও জয়শ্রীর জনপ্রিয়তা পূর্ণতা পায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ‘সূর্য কন্যা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং পরে পরিচালক আলমগীর কবিরকে বিয়ে করে এদেশে থেকে যান। কবিরকে বিয়ে করার পর জয়শ্রী রায় হয়ে যান ‘জয়শ্রী কবির’।

যদিও সেই দাম্পত্য জীবন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। আলমগীর কবিরের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর জয়শ্রী কলকাতায় এবং পরবর্তী সময়ে লন্ডনে পাড়ি জমান।

বেছে বেছে সিনেমায় অভিনয় করতেন এ অভিনেত্রী। গড়পড়তা বাণিজ্যিক ছবিতে তাকে অভিনয় করতে দেখা যায়নি।

মায়েস্ত্রো আলমগীর কবিরের নির্মাণে জয়শ্রী বেশ কিছু কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করেন। এর মধ্যে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘সীমানা পেরিয়ে’ সিনেমায় তার লিপসিঙ্কে ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’ গানটা তো এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

বাংলাদেশে জনপ্রিয় জুটি ছিল জয়শ্রী-বুলবুল। বাংলাদেশের সেরা ১০ সিনেমার তালিকায় স্থান পেয়েছে এই জুটি অভিনীত দুটি ছবি। একটি হলো ‘রুপালি সৈকতে’, আরেকটি ‘সীমানা পেরিয়ে’।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top