সকল মেনু

কলমাকান্দায় ডিবি অভিযানে নাটকীয় পরিস্থিতি: ভারতীয় টাকা, গরু উদ্ধার; আটক ১৫, সাংবাদিক আহত

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় জেলা ডিবি পুলিশের একাধিক অভিযানকে কেন্দ্র করে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, ভারতীয় গরু, মাদকদ্রব্য ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল এসআই আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে রংছাতি ইউনিয়নের তেরোতোপা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে।
ডিবি সূত্র জানায়, মো. সারফুল ইসলাম (পিতা: রুস্তম আলী) এর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি টাকা গণনার মেশিন ও আনুমানিক ২ লাখ ৮০ হাজার ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় গরু চোরাচালান ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের প্রস্তুতির তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত দুই সাংবাদিক— জালাল উদ্দিন ও শ্যামল বিশ্বাস— ভিডিও ধারণ করতে গেলে বাড়িতে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। একপর্যায়ে ডিবি পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিক শ্যামল বিশ্বাস আহত হন।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উত্তেজিত জনতা ডিবি টিমকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরে কলমাকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ডিবি সদস্যদের উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার জানান, আগের দিনের অভিযানের ধারাবাহিকতায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়— নগদ ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা, ভারতীয় ৫টি গরু, ১টি মোটরসাইকেল, ২০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ৫ বোতল মদ।

পুলিশ জানায়, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় ডিবি ও সাংবাদিক পক্ষ থেকে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।অভিযানের পর সীমান্তবর্তী লেংঙ্গুরা, চেংনি, খারনৈ, মানু এমপির বাগান, বৌবাজার, বলমাঠ, পুলিশের বাগানবাড়ি, কচুগড়া, বরুয়াকোনা পাতলাবন, সন্ন্যাসীপাড়া, জাকিরপাড়া, পাঁচগাঁও, রামনাথপুর ও মহিষখলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ সীমান্ত বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তভিত্তিক অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে একটি সংগঠিত চক্র জড়িত থাকতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও জানায়, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা— স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। আইন সবার ঊর্ধ্বে— এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top